রাখাইনে গণহত্যা হয়নি: মিয়ানমার

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলায় মিয়ানমারের প্রতি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া চারটি অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা। দ্য হেগ থেকে এই রায়দানের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে মিয়ানমার সরকার।

দেশটির সরকার বিবৃতিতে বলেছে, তাদের দেশে কোনো গণহত্যা হয়নি। যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়, নিজেদের সরকার গঠিত ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন অফ এনকোয়ারির রিপোর্ট।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া দায়ের করেছিল মামলা। সেই মামলায় আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে) অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে বলে, রোহিঙ্গা নিধন রুখতে ব্যবস্থা নিক মিয়ানমার।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, রাখাইন প্রদেশে কোনও গণহত্যা হয়নি। সেখানে যুদ্ধ অপরাধ হয়েছে। এই মামলাগুলির তদন্ত চলছে।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ‘জাতিগত নিধন’ চালায় মিয়ানমার। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে এ সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

এই নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। এ মামলায় বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও সংঘাত যাতে আরও তীব্রতর না হয় এজন্য অবশ্যই পালনীয় চারটি নির্দেশনা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত।

এদিকে এ মামলার অর্ন্তবর্তীকালীন রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার উখিয়া- টেকনাফে বসবাসরত লাখ লাখ রোহিঙ্গার নজর ছিল আন্তজার্তিক আদালতের বিচার কার্যক্রমের দিকে। দুপুরের পর থেকে ক্যাম্পের ভেতরে টেলিভিশনে এ বিচার কার্যক্রম সরাসরি দেখার জন্য চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়ার একটি চায়ের দোকানে দেখা গেল, উৎসবমুখর পরিবেশে রোহিঙ্গারা ‘উপভোগ’ করছেন বিচার কার্যক্রম।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস নেতা মাস্টার আব্দুর রহিম বাংলানিউজকে বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালানো হয়েছে। গণহত্যা চালানো হয়েছে। আজ আন্তজার্তিক আদালতের এ রায়ে মিয়ানমারের প্রতি যে চারটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আমরা মনে করি এটি রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রাথমিক বিজয়।