করোনা: ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রে

করোনাভাইরাসে সারা বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৭ হাজার। আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি। ছড়িয়েছে বিশ্বের ১৪৫টি দেশে। বাদ যায়নি বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রও।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত চার হাজার ৬৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৮৭ জন। ইতোমধ্যেই দেশটির অন্তত ৪৯টি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যে হারে করোনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে তাতে করে আশঙ্কা করা হচ্ছে অন্তত এক মিলিয়ন (১০ লাখ) নাগরিক এতে আক্রান্ত হবেন।

তবে এর চেয়ে আশঙ্কার কথা হলো দেশটিতে চাহিদার তুলনায় করোনা রোগীর সেবায় ভেন্টিলেটর (কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার যন্ত্র) অপ্রতুল। মাত্র এক লাখ ভেন্টিলেটর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস শ্বাসযন্ত্রে আক্রমণ করে বসলে অবস্থা মারাত্মক হতে পারে। এতে রোগীর শ্বাসকষ্ট হয়। তখন কৃত্তিমভাবে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হয়। এজন্য ভেন্টিলেটর করোনা রোগীর জন্য খুবই জরুরি।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়। এ পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী ৭ হাজার ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫০।

চীনে নতুন করে আরও ২১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৮৮১। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩ হাজার ২২৬ জন।

চীনের পর সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ইতালিতে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ হাজার ৯৮০ এবং মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ জনের। দেশটিতে নতুন করে ৩ হাজার ২৩৩ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

অপরদিকে ইরানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ৯৯১ এবং মৃত্যু হয়েছে ৮৫৩ জনের। স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৯৪২ এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৪২ জনের।

দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৩২০ এবং মারা গেছে ৮১ জন। জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ২৭২ এবং মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের।

ফ্রান্সে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৬৩৩ এবং মৃত্যু ১৪৮। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৬৬৭ এবং মারা গেছে ৮৭ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৩৫৩ এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের।

যুক্তরাজ্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫৪৩ এবং মারা গেছে ৫৫ জন। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৪১৩ এবং মারা গেছে ২৪ জন।

জাপানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ৮৩৩ এবং মারা গেছে ২৭ জন। মালয়েশিয়ায় আক্রান্ত ৫৬৬। তবে দেশটিতে এখন পর্যন্ত কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। কানাডায় এখন পর্যন্ত ৪৪১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৪ জন। কাতারে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩৯, অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্ত ৪০১ এবং মারা গেছে ৫ জন।

সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত ২৪৩, পাকিস্তানে আক্রান্ত ১৮৪ এবং মারা গেছে ১ জন। হংকংয়ে আক্রান্ত ১৫৫ এবং মারা গেছে ৪ জন। থাইল্যান্ডে আক্রান্ত ১৪৭ এবং মৃত্যু ১, ফিলিপাইনে আক্রান্ত ১৪২ এবং মৃত্যু ১২, ইন্দোনেশিয়ায় আক্রান্ত ১৩৪ এবং মৃত্যু ৫।

ইরাকে মোট আক্রান্ত ১৩৩ এবং মারা গেছে ১০ জন, সৌদি আরবে আক্রান্ত ১৩৩, ভারতে আক্রান্ত ১২৯ এবং মৃত্যু ২, কুয়েতে আক্রান্ত ১২৩, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৯৮, ওমানে আক্রান্ত ২২, আফগানিস্তানে ২১, নেপালে ১, বাংলাদেশে নতুন করে তিনজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮। অপরদিকে, তিনজন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।