বঙ্গবন্ধু উনিশ শতকের অন্যতম মহান ব্যক্তিত্ব: মোদি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উনিশ শতকের অন্যতম মহান ব্যক্তিত্ব।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলা উচ্চারণে মোদি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশকে আপনাদের ১৩০ কোটি ভারতীয় ভাই-বন্ধুদের পক্ষ থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন ও শুভ কামনা।’

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গত শতাব্দীর মহান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম। তার সমগ্র জীবন আমাদের সকলের জন্য অনেক বড় প্রেরণা। বঙ্গবন্ধু মানে-একজন সাহসী নেতা, একজন দৃঢ়চেতা মানুষ, একজন ঋষিতুল্য শান্তিদূত, একজন ন্যায়, সাম্য ও মর্যাদার রক্ষাকর্তা, একজন পাশবিকতাবিরোধী এবং যে কোন জোরজুলুমের বিরুদ্ধে একজন ঢাল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং আমরা সকলেই ভাগ্যবান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা ঈশ্বরের আশীর্বাদে রক্ষা পেয়েছিলেন। নয়তো সহিংসতা এবং ঘৃণার সমর্থকরা চেষ্টার কোনো কমতি রাখেনি।

সন্ত্রাস ও সহিংসতার সমর্থকরা এখন কোথায়, কীভাবে আছে এবং বাংলাদেশ কোন উচ্চতায় পৌঁছেছে- তা বিশ্ববাসী দেখতে পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ যেভাবে অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং উন্নয়নমুখী নীতিমালা অনুসরণ করে এগিয়ে চলছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অর্থনীতি থেকে শুরু করে অন্যান্য সামাজিক সূচক, যেমন ক্রীড়াক্ষেত্র কিংবা দক্ষতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন, মাইক্রো ফিনান্সের মতো অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে।

গত ৫-৬ বছরে ভারত ও বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি সোনালী অধ্যায় রচনা করেছে এবং এই অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রা ও দিশা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন মোদী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন  কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার নয়, উন্নয়নেরও অংশীদার।

আগামী বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হবে এবং তার পরের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫তম বার্ষিকী। এ দুটি মাইলফলক কেবল ভারত ও বাংলাদেশের উন্নয়নকেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না, দুদেশের বন্ধনকেও জোরদার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন নরেন্দ্র মোদী।

তিনি তার বক্তৃতা শেষ করেন ‘জয় বাংলা, জয় হিন্দ’ বলে।