মানচিত্র বদলাব না: নেপাল

কোনো অবস্থাতেই মানচিত্রে বদল ঘটানো হবে না বলে এবার ভারতকে সাফ জানিয়ে দিল নেপাল।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গয়ালি সংবাদমাধ্যমে এমনটাই জানিয়েছেন বলে শুক্রবার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রদীপ গয়ালি বলেন, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে গত ২ নভেম্বর নিজেদের মানচিত্র বদল ঘটায় ভারত। তার পরই আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিই। এটা স্থায়ী সিদ্ধান্ত। কারণ ওই এলাকাগুলো নেপালের মধ্যেই পড়ে। এ নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। তবে কোন এলাকা নেপালের মধ্যে পড়ছে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার।

লিপুলেখ গিরিপথ, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাপানিকে নিজেদের দেশের অংশ হিসেবে দেখিয়ে সম্প্রতি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে নেপাল। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে।

এ বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গয়ালি। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র সচিব স্তরে আলোচনা চালাতে ভারতকে চিঠি দিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার জবাব পাইনি। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালাতে দুদেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

কাঠমান্ডুর সঙ্গে আলোচনায় বসতে দিল্লির সমস্যা কোথায়- প্রশ্ন তুলে প্রদীপ গয়ালি বলেন, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে সম্প্রতি ভারত ও চীনা বাহিনীর কমান্ডাররা আলোচনায় বসেন। ভারত ও চীনের মতে আলোচনা হলে, বাংলাদেশ বা নেপালের সঙ্গে নয় কেন?

এদিকে নেপালের সঙ্গে চলমান সমস্যা নিয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, এ নিয়ে আগেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত। নেপালের ঐতিহ্যপূর্ণ সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বকে গভীর ভাবে সম্মান করি আমরা। দুদেশের বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গত কয়েক বছরে আরও প্রসারিত ও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে। নেপালের মানবিক, উন্নয়নমূলক ও যোগাযোগ স্থাপন প্রকল্পে ভারতের সহায়তা আরও বেড়েছে