মিল্কিওয়ের দৈত্যাকার ব্ল্যাকহোলের প্রথম ছবি প্রকাশ

পৃথিবীর অবস্থান মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথের (Milky Way Galaxy) এক কোণে। এই ছায়াপথের কেন্দ্রস্থলে আছে এক দৈত্যাকার ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর। এই প্রথম সেই ব্ল্যাক হোলের ছবি এল প্রকাশ্যে। আটটি রেডিও টেলিস্কোপের সম্মিলিত ছবিকে রঙিন আকার দিয়ে প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল কনসর্টিয়াম। এর আগেও এই ব্ল্যাক হোলটির ছবি তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সেটি নাকি এত ‘লাফালাফি’ করে যে ছবি তোলা যায়নি। সর্বগ্রাসী এই ব্ল্যাক হোলটি পৃথিবী থেকে ২৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। তবে কৃষ্ণগহ্বরের ছবি যে প্রথম তোলা হল তা নয়। ৫ কোটি ৩০ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে একটি কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তুলেছিল এই একই সংস্থা।


মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিটি ছায়াপথেরই একটা করে নিজস্ব ব্ল্যাক হোল আছে। সেগুলি থাকে ছায়াপথের কেন্দ্রস্থলে। এ এমনই এক মরণকূপ যেখান থেকে কিছুই পার পায় না। সবকিছুকে গ্রাস করে নেয় ব্ল্যাক হোল, এমনকী আলোকেও। ফলে এদের ছবি তোলা কঠিন হয়ে যায়। অসীম মহাকর্ষের প্রভাবে আলো অদ্ভুতভাবে বেঁকেচুরে যায়। আমাদের ছায়াপথের ব্ল্যাক হোলটির নাম স্যাজিটেরিয়াস এ। স্যাজিটেরিয়াস এবং স্করপিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জের সীমানায় অবস্থিত এটি। আমাদের সূর্যের থেকে ৪০ লক্ষ গুণ বড় এর আকার!


কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। আমাদের এই মিল্কিওয়ে ছায়াপথেও রয়েছে বিশাল কৃষ্ণগহ্বর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের প্রথম ছবি প্রকাশ করলেন জ্যোর্তিবিদেরা। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে করে তাঁরা জানালেন, আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্রে দৈত্যাকার এক কৃষ্ণগহ্বরে প্রথম সরাসরি চিত্র পেয়েছেন তাঁরা। ডোনাটের মতো দেখতে এই কৃষ্ণগহ্বরে ছবি তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষভাবে নির্মিত ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ (ইএইচটি)।



গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যে কৃষ্ণগহ্বরটির ছবি তোলা হয়েছে, সেটি স্যাগিটারিয়াস এনামে পরিচিত। এর মহাকর্ষীয় কবল থেকে আলো বা কোনো বস্তুই বের হতে পারে না বলে এটি দেখা যায় না। কিন্তু এর ছায়া একটি উজ্জ্বল ও অস্পষ্ট আলোর বলয় এবং বস্তুর দ্বারা চিহ্নিত করা যায়। এই আলো কৃষ্ণগহ্বরে নিমজ্জিত হওয়ার আগে বিশেষ বলয় তৈরি করে। ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ (ইএইচটি) মূলত আটটি রেডিও টেলিস্কোপের একটি নেটওয়ার্ক। এর আগে ২০১৯ সালে মেসিয়ার ৮৭ নামের একটি ছায়াপথে থাকা একটি কৃষ্ণগহ্বরের প্রথম ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছিল এটি।


এই মহাবিশ্ব নিয়ে রহস্যের যেমন শেষ নেই, তেমনি আবিষ্কারেরও শেষ নেই। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ এই মহাবিশ্বের রহস্য জানার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। অনেকাংশে মানুষ সফল হয়েছে। এরপরও বহু বিষয় অজানাই থেকে গেছে। অপেক্ষা করতে থাকলে, আগামী দিনগুলোতে মহাবিশ্ব নিয়ে নতুন কিছু জানার ভাগীদার হতে পারবো নিশ্চয়ই।