মালদ্বীপ পালালেন শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ জুলাই) দিবাগত রাতে একটি সামরিক বিমানে তিনি মালদ্বীপ গেছেন বলে জানিয়েছেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। তার পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে গোতাবায়া দেশ ছাড়লেন। খবর এএফপির।


এএফপিকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী নেতা গোতাবায়া তার স্ত্রী ও এক দেহরক্ষীসহ চার যাত্রী নিয়ে সামরিক বিমান অ্যান্তোনভ–৩২ মঙ্গলবার (১২ জুলাই) মধ্যরাতে বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালদ্বীপের উদ্দেশে রওনা করেন।


শ্রীলঙ্কায় গত মার্চ থেকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। গত শনিবার (১০ জুলাই) পদত্যাগের ঘোষণা দেন গোতাবায়া। ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার (১৩ জুলাই) তিনি পদত্যাগ করবেন। কিন্তু এর আগে থেকেই তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। গত দুই দিন বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে আটকে দেন।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন শ্রীলঙ্কার এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পরিবারের ১৪ সদস্যের সঙ্গে নিয়ে সোমবার (১২ জুলাই) শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দুবাই পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছিলেন গোতাবায়া। কিন্তু সেই চেষ্টায় বাধ সাধে অভিবাসন কর্মকর্তারা।


খবরে আরও বলা হয়, ওইদিন গোতাবায়া পরিবারের মোট ১৫টি পাসপোর্ট নিয়ে কলোম্বোর বিমানবন্দরে পৌঁছায় তার সহযোগীরা। দুবাইগামী শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তাদের আসন বুক করা ছিল। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬ টা ২৫ মিনিটে ফ্লাইট ছাড়ার কথা ছিল।


কিন্তু প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের সদস্যরা সশরীরে বিমানবন্দরে উপস্থিত না হওয়ায় অভিবাসন কর্মকর্তারা তাদের পাসপোর্ট চেক করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারকে ছাড়াই ফ্লাইট ছেড়ে যায়।


এরপর রাত ৯ টা ২০ মিনিটে প্রেসিডেন্টের পরিবার কলোম্বো থেকে আবুধাবীগামী আরেকটি ইতিহাদ ফ্লাইট ধরার চেষ্টা করে। সেবারও ঘটে একই সমস্যা। দুটো ঘটনাতেই গোতাবায়া পরিবার বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি লাউঞ্জে ছিল। তারা পাসপোর্ট চেক করানোর জন্য লাইনে না দাঁড়িয়ে সরাসরি বিমানে ওঠার অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল।


এএফপি’র বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু জানায়, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া ও তার স্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার চারটি ফ্লাইট মিস করে প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের একটি সামরিক ঘাঁটিতে রাত কাটান।


সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রও রাজাপাকসের ভিসার আবেদন প্রত্যাখান করেছে। রাজাপাকসে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যের মতোই গোতাবায়ারও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে একটি আইন মেনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। ওই আইনে বিদেশি নাগরিকদের নির্বাচনে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ ছিল।


এরপর নির্বাচনে বিশাল জয় নিয়ে ক্ষমতায় বসেন গোতাবায়া। কিন্তু তার সরকারের মাত্র তিন বছরের নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের ফলে শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণীত রাজনীতিকে পরিণত হয়েছেন তিনি।


দেশত্যাগের আগে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। সোমবার (১১ জুলাই) তিনি পদত্যাগপত্রে সই করেন বলে জানা গেছে। গোতাবায়ার পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে বুধবার (১৩ জুলাই) থেকে। শ্রীলঙ্কায় ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই। গোতাবায়া আশঙ্কা করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এ আশঙ্কায় তিনি দেশ ছেড়ে মালদ্বীপ পালালেন।