সাড়ে ছয় হাজার নয়, ৫০০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে: কাতার বিশ্বকাপ প্রধান

‘বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার সময় থেকে স্টেডিয়াম নির্মাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ১০ বছরে কাতারে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের অন্তত ৬ হাজার ৫০০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।’


গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বার্তাসংস্থা গার্ডিয়ানের প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সম্প্রতি ফের আলোচনায় আসে। চলতি নভেম্বর বিশ্বকাপের উদ্বোধনের কিছুদিন আগেও সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয় ওই প্রতিবেদন, প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে। তবে এবার গার্ডিয়ানের রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে মুখ খুললেন কাতার বিশ্বকাপের ইনচার্জ হাসসান আল-থাওয়াদি।


৩০ নভেম্বর, বুধবার সিএনএনের বরাতে এই তথ্য জানা যায়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ‘টক টিভি’-তে পিয়ার্স স্টিফেন মরগ্যানকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন নিয়ে নানা মন্তব্য করেন বিশ্বকাপ প্রধান (ইনচার্জ) ও কাতারের সুপ্রিম কমিটি ফর ডেলিভারি অ্যান্ড লিগ্যাসি (এসসি) এর মুখপাত্র হাসসান আল-থাওয়াদি।


হাসসান বলেছেন যে টুর্নামেন্টের সাথে সংযুক্ত প্রকল্পগুলিতে কাজ করার ফলে ৪০০ থেকে ৫০০ অভিবাসী শ্রমিক মারা গেছেন। তিনি বলেন, সঠিক অংকটা আমার জানা নেই। যতটুকু আলোচিত হয়েছে, ততটুকুই জানি। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই বিরাট কিছু। তবে আমাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মান উন্নত হচ্ছে; অন্তত আমাদের বিশ্বকাপের সাইটগুলোতে, যেগুলির জন্য আমরা দায়ী, সবচেয়ে স্পষ্টভাবে।


এর আগে, কত বছর সিএনএনের বেকি এন্ডারসনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ প্রধান বলেছিলেন, গার্ডিয়ানের শিরোনাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তাদের সংবাদ বিভ্রান্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক।


এদিকে, অক্টোবরে কাতারের সরকার সিএনএনকে জানায়, গত ১০ বছর সারা দেশে দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে যেসব মৃত্যু হয়েছে, গার্ডিয়ানের রিপোর্টে সেগুলোকে কাতার বিশ্বকাপের সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে। অসুস্থতা, বার্ধক্য এবং ট্র্যাফিক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে যে অনেকের মৃত্যু হয়েছে সেটিও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।


এছাড়া, দেশটিতে বিদেশি শ্রমিকদের মাত্র ২০ শতাংশকে যে নির্মাণ সাইটে নিযুক্ত করা হয়— সেটিও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে দাবি করে কাতার।