রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বেড়ে ৩০, নিখোঁজ ৪৪

দিন দু’য়েক আগে ইউক্রেনজুড়ে নতুন করে ব্যাপক মিসাইল হামলা চালায় রাশিয়া। সেসময়ই পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডিনিপ্রোর একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে হওয়া রুশ মিসাইল হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে।


এছাড়া এই ঘটনায় এখনও ৪৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গত শনিবার এই মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার পূর্ব ইউক্রেনীয় শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরে সেখানে আর কেউ হয়তো নাও বেঁচে থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ডিনিপ্রোর মেয়র। হামলায় এখনও পর্যন্ত ৩০ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ৪৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে শহরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


ডিনিপ্রোর মেয়র বরিস ফিলাতোভ বলেছেন, হামলার পর এখন সেখানে অন্য কাউকে জীবিত খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ‘ন্যূনতম’ পর্যায়ে রয়েছে।


গত শনিবার ডিনিপ্রো ছাড়াও রাজধানী কিয়েভ, খারকিভ এবং ওডেসাতেও হামলা হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মস্কো উল্লেখ করেছে।


তবে শনিবার নতুন করে হওয়া রুশ ওই হামলায় পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডিনিপ্রোতে একটি নয় তলা ভবনে মিসাইল আঘাত হানে। এতে প্রাথমিকভাবে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি ভবনের বেশ কয়েকটি তলা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।


তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ জনে। মেয়র বরিস ফিলাতোভ বলছেন, হামলার পর প্রায় ৭০ জনের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১০ জনের ‘অবস্থা বেশ কঠিন’ ছিল।


পোলিশ প্রধানমন্ত্রী মাতেউস মোরাউইকি রাশিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ‘অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে’।


এদিকে রোববার সন্ধ্যায় দেওয়া ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, হামলার পর তিনি সারা বিশ্ব থেকে সহানুভূতির অনেক বার্তা পেয়েছেন। একইসঙ্গে হামলার বিষয়ে রাশিয়ান জনগণের ‘কাপুরুষোচিত নীরবতার’ নিন্দাও করেছেন তিনি।


ভাষণে রাশিয়ান ভাষায় জেলেনস্কি বলেন, তিনি সেইসব মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে চান ‘যারা এখনও এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিন্দার কয়েকটি শব্দও উচ্চারণ করতে পারে না’। তিনি আরও বলেন, হামলায় নিহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে এবং আরও দু’টি শিশু এতিম হয়ে গেছে।


অন্যদিকে রুশ হামলার জেরে ইউক্রেনেকে আরও সামরিক সহায়তার কথা জানিয়েছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো। জার্মান মিডিয়াকে ন্যাটোর প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ রোববার বলেন, ইউক্রেন পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে আরও ভারী অস্ত্র সরবরাহের আশা করতে পারে।